Wednesday, July 25, 2018

বাংলা উইকিপিডিয়ার মতে পর্নোগ্রাফি

বাংলা উইকিপিডিয়ার মতে পর্নোগ্রাফি

পর্নোগ্রাফি (সংক্ষেপে “পর্ন” বা “পর্নো” অনানুষ্ঠানিক ব্যবহারে) (ইংরেজি: Pornography) যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যৌনসংক্রান্ত বিষয়বস্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন বা পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। পর্নোগ্রাফি শব্দটি গ্রিক শব্দ “পরনোগ্রাফিয়া” থেকে নেওয়া হয়েছে। পর্নোগ্রাফি বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে উপস্থাপন করা হতে পারে, এর মধ্যে অর্ন্তভুক্ত রয়েছে, বই, সাময়িকী, পোস্টকার্ড, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, অঙ্কন, পেইন্টিং, অ্যানিমেশন, সাউন্ড রেকর্ডিং, চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং ভিডিও গেম।

বাংলাদেশের আইনে পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা

যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোনো অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য-চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, অঙ্কিত চিত্রাবলি, বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য বিষয় — যার কোনো শৈল্পিক মূল্য নেই – তা পর্নোগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হবে। অধিকন্তু, যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, পত্র-পত্রিকা, ভাস্কর্য, কল্প-মূর্তি, মূর্তি, কার্টুন বা প্রচারপত্র পর্নোগ্রাফি হিসেবে বিবেচিত হবে। এসবের নিগেটিভ বা সফট ভার্শনও পর্নোগ্রাফি হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত কারা?

বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারকারী কারা, তা নির্ধারণের তেমন কোনো চেষ্টা এখনো হয়নি৷ তবে স্কুল ছাত্রদের নিয়ে একটি জরিপ করেছে বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’৷ দেখা গেছে, ঢাকার স্কুল পড়ুয়াদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে৷ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মামুন একটি পত্রিকাকে জানান, “আমাদের এই জরিপটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে করা হয়৷ আর তাতে দেখা যায়, পর্নোগ্রাফি তারা ছবি, ভিডিও, অডিও এবং টেক্সট আকারে ব্যবহার করে৷ এসব পর্নোগ্রাফির আবার বড় অংশই দেশে তৈরি৷ এই শিক্ষার্থীরা প্রধাণত মোবাইল ফোনে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখে৷ এর বাইরে ট্যাব, ল্যাপটপেও তারা দেখে৷ আবার পেনড্রাইভ ব্যবহার করে বিনিময়ও করে৷”
বাংলাদেশে সাধারণভাবে পর্নোগ্রাফির ব্যবহার কেমন বা কারা এর ভোক্তা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট জরিপ নেই৷ জরিপের ফলোআপে দেখা যায়, ৩০-৩৫ বছর যাদের বয়স এবং তাদের মধ্যে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের শতভাগই একবার হলেও পর্নোগ্রাফি দেখেছেন৷ নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখেন ৯০ ভাগ৷ আর যুবনারীদের মধ্যে সংখ্যাটা শতকরা ৫০ ভাগ৷”
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জরিপে আরো কিছু তথ্য উঠে এসেছে৷ তার মধ্যে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পর্নোগ্রাফির প্রবণতা বাড়ছে৷
এই পর্নোগ্রাফি প্রতিরোধে বাংলাদেশে আইন নেই ব্যাপারটা এমন না, আইন ঠিকই আছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আইন থাকা সত্ত্বেও এই প্রবণতা হ্রাস পাওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু তা না হয়ে বরং তা বাড়ছে ভয়ানক গতিতে। যদিও বিটিআরসি ৫৬০টি পর্ন সাইট বন্ধ করেছে, কিন্তু পর্নোগ্রাফির জগত তো আর এই (৫৬০ টি সাইট) গণ্ডিতে থাকে না। তার আছে যে এক বিশাল ফিল্ড! আর বাংলাদেশের ছেলেপেলে কি কম মেধাবী? তাদের ভালো করেই জানা আছে কীভাবে ওই বন্ধ সাইটে প্রবেশ করতে হয় ভিপিএন দিয়ে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল মামুন (১১ অক্টোবর ২০১৭ একটি পত্রিকায়) বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনটি সুনির্দিষ্ট একটি আইন। এ আইনের অধীনে একটি-দুটি মামলায় দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার নজির থাকলে অপরাধীরা ভয় পেত।
এই তো গেলো আমাদের সোনার দেশে পর্নোগ্রাফির চিত্র। আপনি যদি আপনার ছোট ভাই বা বোন কিংবা ভাগিনা, ভাতিজা, ভাতিজিকে সতর্ক না করেন, কী জানি উপরের পরিসংখ্যানে পড়ে যেতে পারে আপনার প্রিয়জনও। তা আমরা নিশ্চয়ই চাই না। কী বলেন? তাই এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। ছেলে, মেয়ে সহ পরিবারের ছোটদের প্রতি যত্নবান হতে হবে। তারা যেন সারাদিন মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে পড়ে না থাকে, সেদিকেও আপনার নজর দিতে হবে। আর হ্যাঁ, আপনাকে একটি তথ্য দেই। আপনি এখন (বাংলাদেশে) যদি কম্পিউটারের সামনে থাকেন, তাহলে গুগলে জাস্ট “চ” লিখে দেখেন সার্চ দেওয়ার দরকার নেই। দেখেন গুগল আপনাকে কী সাজেস্ট করে। আর এই সাজেস্ট গুগল কেন করে জানেন? কারণ গুগল সেই জিনিসই বেশি দেখায়, যেটা তার কাছে বেশি হিট বা রিকোয়েস্ট আসে। আর এই রিকোয়েস্টগুলো আমাদের বাংলাদেশের ছেলেপেলেরাই করছে। কত ভয়ানক তাই না! কিন্তু এই “চ” যদি আপনি সাউথ কোরিয়া থেকে লিখেন, সেখানে কিন্তু এই আজেবাজে সাজেস্ট গুগল করবে না যা আপনাকে বাংলাদেশে করেছিলো। কারণ গুগল একটি নির্দিষ্ট system এ সার্চ করে। এই নিয়ে বেশি কথা বললে আর্টিকেল বড় হয়ে যাবে, তাই এখানেই থামছি। আর তাদের (পরিবারের) সাথে সময় দিতে হবে। এর প্রতিকার নিয়ে সামনে আরো কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। এখন চলুন, আপনাকে কিছু পর্নোগ্রাফির পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন দেশের এই নিকৃষ্ট (পর্নোগ্রাফি) জিনিসের চিত্র তুলে ধরে দেখাই।

পর্নোগ্রাফির পরিসংখ্যান

প্রতি ১ সেকেন্ডে এই ভয়ানক জগতে যা যা হয়, তার অতি সংক্ষিপ্ত লিস্ট
■ 3,075.64 ডলার ব্যয় করা হয়। যা বাংলা টাকায় দাঁড়ায় ২৪৯,৬৭৪ টাকা। কী? অবাক হচ্ছেন? পর্নোগ্রাফির জগতে এইগুলো পানিভাত। এটা তো মাত্র ১ সেকেন্ডের হিসাব। ১ দিনের টাকার পরিমাণ কত হবে ভাবতে পারেন! হিসাবটা নিজেই করে দেখুন।
■ ২৮,২৫৮ জন মানুষ পর্ন দেখে।
■ ৩৭২ জন মানুষ যে word টি search engine এ সার্চ করে সেটি হলো “adult”
এ তো গেলো সেকেন্ডের কথা। এখন মিনিটের কথা তুলে ধরছি।
■ প্রতি ৩৯ মিনিটে ১টি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি করে আমেরিকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। আমেরিকা।
এবার চলুন দেখে আসি ভার্চুয়াল জগত তথা ইন্টারনেটে এই পর্নোগ্রাফি যা মানব চরিত্র কলুষিত করছে তার অবস্থান।
■ আপনি কি জানেন ইন্টারনেটের জগতে পর্ন সাইট কয়টি আছে? না, না! কয়টি বললে ভুল হবে। কত লাখ আছে? জেনে অবাক হবেন ৪.২ মিলিয়ন, মানে ৪২ লাখ! যার মানে ইন্টারনেটের মোট সাইটের ১২%। সাংঘাতিক ব্যাপার, তাই না?
■ ৬৮ মিলিয়ন, মানে ৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষ দৈনিক সার্চ ইঞ্জিনে রিকোয়েস্ট পাঠায় (মানে পর্ন দেখতে চায়) যা মোট রিকোয়েস্টের ২৫%।
■ প্রতি মাসে পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট ডাউনলোড করা হয় তার পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন। আর জানেন তো ১ বিলিয়ন মানে ১ এর পর ৯টা শূন্য। যা টোটাল ডাউনলোডের ৩৫%
■ ৪২.৭% ইন্টারনেট ইউজার পর্নোগ্রাফি দেখে। যা টোটাল ইউজারের অর্ধেকের কাছাকাছি।
এবার চলুন দেখি আসি এর থেকে কোন কোন দেশ কী পরিমাণ রাজস্ব আয় করে।
■ আমেরিকা আয় করে ১৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার! যা দিয়ে পৃথিবীর ৩০% মানুষের ক্ষুধা মেটানো সম্ভব।
■ জাপান আয় করে ১৯.৯৮ বিলিয়ন ডলার! যা দিয়ে পৃথিবীর ৪২% মানুষের ক্ষুধা মেটানো সম্ভব।
■ সাউথ কোরিয়া আয় করে ২৫.৭৩ বিলিয়ন ডলার! যা দিয়ে পৃথিবীর ৫৮% মানুষের ক্ষুধা মেটানো সম্ভব।
■ চায়না আয় করে ২৭.৪০ বিলিয়ন ডলার! যা দিয়ে পৃথিবীর ৬৮% মানুষের ক্ষুধা মেটানো সম্ভব।
উপরের পরিসংখ্যান দেখে এখন আপনি হয়তো ভাবছেন আরেহ! পুরো ইন্টারনেট জগত কি পর্নোগ্রাফিতে তলিয়ে যাবে? না, এখনও পুরোটা তলিয়ে যায়নি। তবে অর্ধেকের থেকে একটু কম কিন্তু already তলিয়ে গেছে। তারপরও কি আপনি মুখ বুজে বসে থাকবেন? যদি তা-ই হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আপনার কাছের আপনজন যে এই স্রোতে ভেসে যাবে না তার কি কোনো গ্যারান্টি আছে? ভাবুন, আপনিও ভাবুন নিজের ঘর থেকে পুরো সমাজকে কীভাবে এর থেকে মুক্ত করা যায়। আমার বিশ্বাস আপনি পারবেন। পুরো সমাজ না পারলেও নিজের ঘরকে তো মুক্ত রাখতে পারলেন। এতেই বা আনন্দ কম কীসের। কে জানে আপনার দেখাদেখি অন্যরাও সংশোধন হয়ে যেতে পারে। ওহ, আর একটি কথা বলতে ভুলেই গেছি। উপরের যে পরিসংখ্যান দেখেছেন, তা কিন্তু ২০০৬ সালের। এবার আরো একটু ভাবুন ২০১৮-তে এর অবস্থান কমেছে নাকি ভয়ানক গতিতে বেড়েছে, সে প্রশ্নটা আপনার সুস্থ বিবেকের কাছে রইলো।

পর্ন দেখলে যেসব ক্ষতি হয়

১. অতিরিক্ত পর্নের নেশা ড্রাগের চেয়েও মারাত্মক। পর্ন ড্রাগ, মদ বা সিগারেটের মতোই আসক্তি তৈরি করে। পর্ন দেখলে মস্তিষ্কে একটা ‘ফিল গুড’ রাসায়নিক তৈরি হয়। এর নাম ডোপামিন। একটানা পর্ন দেখলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন সামান্য ডোপামিনের ক্ষরণে উত্তেজনা তৈরি হয় না। আরও বেশি ডোপামিনের জন্য মস্তিষ্ক আরও বেশি পর্নের রসদ খোঁজে এবং আসক্তি বাড়িয়ে তোলে।
২. অতিরিক্ত পর্নের আসক্তি সম্পর্কের ক্ষতি করে। যত বেশি পর্ন দেখবেন, ততই আপনি একটা অলীক ফ্যান্টাসির জগতে চলে যাবেন। এর ফলে বাস্তবের সম্পর্কগুলো আর আপনাকে সুখ দিতে পারবে না, যা সম্পর্কের অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
৩. অতিরিক্ত পর্ন মানসিক রোগের জন্ম দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্ন দেখা হয় একা, সমাজের চোখ এড়িয়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে একটা অপরাধ বোধ জন্ম নেয়। যা থেকে ভবিষ্যতে মানসিক রোগ হতে পারে।
৪. অতিরিক্ত পর্ন আপনার মনে ভাবনার সাম্যতা নষ্ট করে দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্ন তারকারা মেক আপ, ফটোশপ এবং কসমেটিক সার্জারির সাহায্য নেন। বেশি পর্ন দেখলে আপনি মানসিকভাবে বাইরের মানুষদের মধ্যে সেই তারকাদের খুঁজে পেতে চেষ্টা করবেন।
৫. অতিরিক্ত পর্ন আপনার স্বাভাবিক যৌনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। অতিরিক্ত পর্ন আপনার সঙ্গীর প্রতি আসক্তি কমিয়ে দেয়। ফলে নষ্ট হয় স্বাভাবিক যৌনজীবন।
৬. পর্ন দেখা লোকজনের ইরেক্টাইল ডিসফাংশান হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অতিরিক্ত পর্ন মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে এই রোগের সৃষ্টি করে।
৭. পর্ন নারী পাচারের প্রবণতা বাড়ায়। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে যারা যুক্ত, তাদের অনেকে স্বেচ্ছায় এই পেশা বেছে নিলেও নতুন মুখের চাহিদা এখানে প্রবল। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগান বাড়াতে গিয়ে বাড়ে নারী পাচারের সংখ্যা।
৮. পর্ন মানুষকে বদমেজাজি ও খিটখিটে করে তোলে। দেখা গেছে, একেবারে সাদামাটা পর্নও অতিরিক্ত দেখলে তা দর্শকের মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। এছাড়াও মানুষকে অতি আক্রমণাত্মক, বদমেজাজি ও খিটখিটে করে তোলে।

পর্নোগ্রাফি তথা অশ্লীলতার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আল্লাহ্‌ তা’আলা অশ্লীলতা সম্পর্কে কুরআনে বলেন,
আপনি বলে দিন, আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য……। [সূরাহ আল-আ’রাফ (৭) : ৩৩]
যারা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। [সূরাহ আন-নূর (২৪): ১৯]
আর তোমরা যিনার (অবৈধ যৌনকর্মের) কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। [সূরাহ আল-ইসরা (১৭): ৩২]
হে মুমিনগণ, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না আর যে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন সে (শয়তান) নির্লজ্জতার ও মন্দ কাজের আদেশ করবে। [সূরাহ আন-নূর (২৪): ২১]
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। … [সূরাহ আন-নূর (২৪): ৩০-৩১]
নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটি সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে। [সূরাহ আল-ইসরা (১৭): ৩৬]
চার দেয়ালের মধ্যে একা রুমে আপনি আর কেউ নেই। কেউ দেখছে না আপনাকে। ব্যস, অমনি চান্স পেয়ে আপনি চলে গেলেন পর্নসাইটে। ডেপ ডেপ করে গিলছেন সেই অসভ্য কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য। কিন্তু আপনার এই ভাবনাটা ভুল। আপনাকে দুনিয়ার আর কেউ না দেখুক, কিন্তু আল্লাহ্‌ আপনাকে ঠিকই দেখছেন। আর আপনি কি না বেমালুম তার কথা ভুলে গেলেন। কত অকৃতজ্ঞ বান্দা আপনি, একবার কি ভেবেছেন? ঠিক সেই সময় যদি আপনার মৃত্যু চলে আসে আর স্ক্রীন চলতে থাকে আর আপনার আপনজন যদি এসে আবিস্কার করে যে আপনি কি না এমন যাকে সবাই ভদ্র ও সভ্য মনে করতো! সেই ভদ্র ও সভ্যের মুখোশের আড়ালে আপনি ছিলেন নিরেট ভণ্ড। আর আপনি এও ভুলে গেলেন যে কান, চোখ, ও অন্তর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, অর্থাৎ হিসাব নেওয়া হবে। পারবেন কি সেই হিসাব দিতে?

প্রতিকার

১। ইসলামে আছে অশ্লীলতাসহ সব ধরনের পাপাচারের পার্মানেন্ট সলুউশান। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য রাস্তা তালাশ কর এবং তাঁর রাস্তায় জিহাদ কর। যাতে এ সবকিছুর ফলে তোমাদের সফলতা অর্জিত হয় দুনিয়াতেও, আখিরাতেও। [সূরাহ আল-মায়িদা (৫) : ৩৫]
তাকওয়া (আল্লাহ্‌র ভয়) এক অতন্দ্র প্রহরি। কোনো এলাকায় আইন-কানুনের পাবন্দি থাকলেও দেখা যায়, তা কেবল পুলিশের ডাণ্ডা ও আদালতি ঝামেলার ভয় থাকা পর্যন্তই। এরপর আর কেউ নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। কিন্তু একান্ত নির্জনতায় এবং নিশুতি রাতের অন্ধকারেও যে জিনিস মানুষের অন্তরে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করে তা হল আল্লাহ তাআলার ভয়।
২। পরনারী থেকে দৃষ্টি নিচু করতে হবে। হারাম রিলেশান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
৩। যেসব জিনিস পর্ন দেখার উৎসাহ জোগায়, সেসব থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন, গান-বাজনা, মুভি ও বাজে বন্ধু।
৪। উস্তাদ মাজেদ মাহমুদ বলেন, পর্ন দেখার জন্য তিনটা জিনিসের প্রয়োজন
■ চিন্তা (যে আজ আমি পর্ন দেখবো)
■ ডিভাইস (মোবাইল, ল্যাপ্টপ, ট্যাব ইত্যাদি পর্ন দেখার জন্য)
■ জায়গা (কোনো খালি একটি রুম বা ঘর)
এই তিনটি জিনিস থেকে যেকোনো একটি জিনিস বাদ দিন। দেখবেন পর্ন আর দেখা হবে না।
৩। মাসজিদে নিয়মিত সালাত পড়ুন।
নিশ্চয় সালাত সকল অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে … । [সূরাহ আনকাবুত (২৯): ৪৫]
৪। মাঝে মাঝে সওম রাখার অভ্যাস করুন। ইনশা আল্লাহ এর দ্বারা আপনার পর্ন আসক্তি দূর হয়ে যাবে।
৫। কিছু সময় যিকির করুন। আর খুব দু’আ করুন। বেশি বেশি তাওবাহ করুন।
৬। যদি এতকিছুর পরও আবারও সেই নেশায় পেয়ে যায়, তাহলে নিজেকে শাস্তি দিন। যেমন, আমি যদি আর পর্ন দেখি তাহলে ১০০০ টাকা দান করবো বা ১০ রাকাত বেশি নফল সালাত পড়বো। ইনশা আল্লাহ এই কাজগুলো করতে পারলে এই পর্ন নামক জিনিস থেকে আপনি বের হয়ে আসতে পারবেন।

আপনিও পারবেন 

অনেকে বলে থাকেন যে, অনেক অনেক চেষ্টা করার পরও পর্ন দেখার অভ্যাস ছাড়তে পারছেন না। আমি বলি এটা একটা অজুহাত মাত্র। কেন বলছি জানেন? আপনি তো শুধু পর্ন watcher (মানে শুধু দেখেন)। একবার চিন্তা করুন performer এর কথা, যাকে ঘিরে এই পর্ন ভিডিও তৈরি করা হয়। যদি সে পারে এই অসভ্য কাজ থেকে চলে আসতে, তাহলে আপনি কেন শুধু দেখা বন্ধ করতে পারবেন না? তেমনই এক porn performer ব্যক্তি তাঁর সময়ে সে ছিলেন most successful male porn performer. তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন কেন তিনি এই কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি একটি উক্তি করেন, যা আমি তুলে  ধরছি।
“If I can change my heart, (এতটুকু বলে তিনি মুচকি হাসি দেন) anybody can.”

অভিভাবকদের জন্য কিছু পরামর্শ

১। পরিবারের সদস্যের প্রতি যত্নবান হোন।
২। কোনো সদস্য একাকিত্ব বা হতাশায় ভুগে কি না সে ব্যাপারে লক্ষ রাখুন।
৩। পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ কায়েম করুন।
৪। কম্পিউটারে parental control software ইন্সটল করে দিন। এক্ষেত্রে k9 web protection software টি use করতে পারেন।
পর্নের ভয়াবহতা সম্পর্কে আরো জানতে এবং এর থেকে বাঁচার আরো উপায় জানতে এই ভিডিওগুলো দেখুন
পর্নের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে এমন দুইটা বাংলা সাইট
https://stoppornographybd.blogspot.com/

তথ্যসূত্র
৬। দৈনিক আমাদের সময় (২১ এপ্রিল ২০১৬)

নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন অসংখ্য পুরুষ

ডেস্ক রিপোর্ট : পর্নোগ্রাফি দেখার কুফল অনেক। নিয়মিত পর্নো ছবি দেখার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন অসংখ্য পুরুষ।


প্রথমত, পর্নো আসক্ত পুরুষদের সাধারণত রুচিশীল নারীরা হীনম্মন্য ও চরিত্রহীন মনে করে। নারীরা যখন জানতে পারে তার পরিচিত কোনো পুরুষ নিয়মিত পর্নো ছবি দেখে, তখন তার সম্পর্কে খারাপ মনোভাব জন্ম নেয়। এবং তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

দ্বিতীয়ত, রুচিবোধের অধঃপতন হয়। যারা নিয়মিত পর্নো সিনেমা দেখে তাদের রুচি বিকৃত হয়ে যায়। জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্কগুলোতেও নিজের অজান্তে বিকৃতি খোঁজে তাদের চোখ।

তৃতীয়ত, নিয়মিত পর্নো ছবি দেখতে দেখতে পুরুষরা বাস্তবতাকেই হারিয়ে ফেলে। বাস্তব জীবনেও তারা তেমন সঙ্গীই আশা করে। সাধারণ নারীদের তখন আর তাদের যথেষ্ট মনে হয় না। ফলে জীবনের সুখ-শান্তি হারিয়ে যায় তাদের।

পর্নো নায়িকাদের সৌন্দর্য কৃত্রিম, আচরণও কৃত্রিম। মেকআপ, লাইট ও ক্যামেরার কারসাজিতে তাদের মোহনীয়ভাবে দেখানো হয়, যা বাস্তব জীবনে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই পর্নো আসক্তরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গ থেকে যায় অথবা সংসারে অসুখী হয়।

চতুর্থত, নিয়মিত পর্নো ছবি যারা দেখে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বিকৃত অভ্যাস, যার অতিরিক্ত প্রয়োগে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে এবং যৌন জীবনে নানান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

পঞ্চমত, এটি এক ভয়াল নেশা। পর্নো সিনেমার নেশা মাদকের নেশার মতোই ভয়ংকর। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেমন কষ্টসাধ্য, পর্নো আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়াও দুরূহ ব্যাপার। পর্নো আসক্তির কারণে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়, পড়াশোনায় ক্ষতি হয়, এমনকি নিজের মধ্যেও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়।

ষষ্ঠত, পর্নো আসক্তদের মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে, পেনড্রাইভে সবখানেই পর্নো ছবি থাকে। অনেক সময় এসব অনৈতিক বিষয় পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যায়। ফলে পর্নো-আসক্ত ব্যক্তিকে হেয় হতে হয়। এ ছাড়া হারাতে হয় ভালো বন্ধু-সার্কেলকেও।

আপনি কি যখনই সুযোগ পান তখনই পর্ন দেখেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে বলা যায় পর্নের প্রতি আপনার আসক্তি তৈরি হয়েছে।


আপনি কি যখনই সুযোগ পান তখনই পর্ন দেখেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে বলা যায় পর্নের প্রতি আপনার আসক্তি তৈরি হয়েছে। আর এই আসক্তি থেকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি পেতে হবে আপনার। যদি এক দিনে না পারেন, তবে ধীরে ধীরে। কিন্তু বন্ধ করতেই হবে।
কারণ চিকিৎসকরা জানান, পর্নাসক্তি ড্রাগের নেশা থেকে কোনও অংশে কম নয়, তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে আপনার জীবনে।
জেনে নিন চিকিৎসকদের মতে যে ৮ কারণে আপনার এখনই পর্ন দেখা বন্ধ করা উচিত।
১. অতিরিক্ত পর্নের নেশা ড্রাগের চেয়েও মারাত্মক। পর্ন ড্রাগ, মদ বা সিগারেটের মতোই আসক্তি তৈরি করে। পর্ন দেখলে মস্তিস্কে একটা 'ফিল গুড' রাসায়নিক তৈরি হয়। এর নাম ডোপামিন। একটানা পর্ন দেখলে মস্তিস্কে ডোপামিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন সামান্য ডোপামিনের ক্ষরণে উত্তেজনা তৈরি হয় না। আরও বেশি ডোপামিনের জন্য মস্তিস্ক আরও বেশি পর্নের রসদ খোঁজে এবং আসক্তি বাড়িয়ে তোলে।
২. অতিরিক্ত পর্নের আসক্তি সম্পর্কের ক্ষতি করে। যত বেশি পর্ন দেখবেন, ততই আপনি একটা অলীক ফ্যান্টাসির জগতে চলে যাবেন। এর ফলে বস্তবের সম্পর্কগুলো আর আপনাকে সুখ দিতে পারবে না, যা সম্পর্কের অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।
৩. অতিরিক্ত পর্ন মানসিক রোগের জন্ম দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্ন দেখা হয় একা, সমাজের চোখ এড়িয়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে একটা অপরাধ বোধ জন্ম নেয়। যা থেকে ভবিষ্যতে মানসিক রোগ হতে পারে।
৪. অতিরিক্ত পর্ন আপনার মনে ভাবনার সাম্যতা নষ্ট করে দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পর্ন তারকারা মেক আপ, ফোটোশপ এবং কসমেটিক সার্জারির সাহায্য নেন। বেশি পর্ন দেখলে আপনি মানসিক ভাবে বাইরের মানুষদের মধ্যে সেই তারকাদের খুঁজে পেতে চেষ্টা করবেন।
৫. অতিরিক্ত পর্ন আপনার স্বাভাবিক যৌনজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। অতিরিক্ত পর্ন আপনার সঙ্গীর প্রতি আসক্তি কমিয়ে দেয়। ফলে নষ্ট হয় স্বাভাবিক যৌনজীবন।
৬. পর্ন দেখা লোকজনের ইরেক্টাইল ডিসফাংশান হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অতিরিক্ত পর্ন মস্তিস্কে রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে এই রোগের সৃষ্টি করে।
৭. পর্ন নারী পাচারের প্রবণতা বাড়ায়। পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে যারা যুক্ত, তাদের অনেকে স্বেচ্ছায় এই পেশা বেছে নিলেও নতুন মুখের চাহিদা এখানে প্রবল।
চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগান বাড়াতে গিয়ে বাড়ে নারী পাচারের সংখ্যা।
৮. পর্ন আপনাকে বদমেজাজি ও খিটখিটে করে তোলে। দেখা গেছে, একেবারে সাদামাটা পর্নও অতিরিক্ত দেখলে তা আপনার মানসিকতায় প্রভাব ফেলে। এছাড়াও আপনাকে অতি আক্রমণাত্মক, বদমেজাজি ও খিটখিটে করে তোলে

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx


নিউজ ডেস্ক: পর্নোগ্রাফি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই যৌন উৎকল্পনার খোরাক যোগায়। তবে এক্স রেটেড ইমেজ ও ফিল্ম উৎকাল্পনিক ইন্দ্রিয় সুখ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যেরও অনেক ক্ষতি করে।মানসিক অবস্থার উপর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হরমোন নিঃসরণের পাশাপাশি আসক্তিমূলক প্রবণতাও সৃষ্টি করতে পারে পর্ন। ফলে আমাদের মস্তিষ্কে পর্নোগ্রাফির মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবও পড়তে পারে।   আপনি যত বেশি পর্ন দেখবেন ততই মন চাইবে।  স্বাভাবিক যৌন সহবাস ও পর্ন মুভি দেখা উভয়ের মাধ্যমেই মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের হরমোন নিঃসরিত হয়। এই হরমোনের প্রভাবেই আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভুতি বা ইন্দ্রিয় সুখানুভুতির সৃষ্টি হয়।কিন্তু নিয়মিত পর্ন দেখার ফলে স্বল্পবিরতিতে বারবার ডোপামিন নিঃসরণের ফলে মস্তিষ্ক এই হরমোনটির কার্যকারীতার প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলতে পারে।   জেএমএ সাইকিয়াট্রি নামের জার্নালে ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়- নিয়িমিত পর্ণ মুভি দেখলে একটা সময়ে এসে যৌনতার প্রতি মস্তিষ্কের উদ্দীপনায় ঘাটতি নেমে আসতে পারে।তার মানে আগের মতো স্বাভাবিক মাত্রার যৌন উদ্দীপনা ধরে রাখতে হলে আরো বেশি হারে ডোপামিন নিঃসরণের দরকার পড়বে। এর জন্য আবার আরো বেশি বেশি পর্ন মুভি দেখার প্রয়োজন পড়বে। গবেষণায় এমনটাই প্রমাণ পেয়েছেন জার্মান বিশেষজ্ঞরা।  সাইকোলজি টুডে-তে প্রকাশিত ২০১১ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এভাবে অতিরিক্ত ডোপামিনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ার মানে হল যারা পর্ন মুভি দেখেন তাদের যৌন উত্তেজনা বা উদ্দীপনা সৃষ্টি হওয়ার জন্য উত্তোরত্তর চরম অভিজ্ঞতামূলক পরিস্থিতির প্রয়োজন পড়বে।পর্ন মুভিতে অমন অস্বাভাবিক যৌনাচরণ দেখার ফলে পুরুষরা ক্রমান্বয়ে যৌন সংবেদনশীলতা হারাতে থাকে এবং স্বাভাবিকভাবে যৌন উত্তেজনার সক্ষমতাও হারাতে থাকে।পর্নোগ্রাফি এমন একটি তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টি করে যারা বেডরুমে হতাশায় ভোগে।  পর্ন মস্তিষ্ককে সংকুচিত করে  যারা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখেন সম্ভবত তাদের মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়ে আসতে থাকে। ওই জার্মান গবেষকরা এমনটাই আবিষ্কার করেছেন।মস্তিষ্কের যে অংশটুকুতে যৌন উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত পর্ন মুভি দেখার ফলে সে অংশটুকেু ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসতে থাকে।ওই গবেষণায়ই সর্বপ্রথম গবেষকরা নিয়মিত পর্ন মুভি দেখার সঙ্গে শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তবে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যারা বেশি বেশি পর্ন মুভি দেখেন তারা হয়তো একটি বিশেষ ধরনের মস্তিষ্ক নিয়েই জন্মগ্রহণ করেন।  
পর্ন আসক্তদের মন ড্রাগ আসক্তদের মতোই 
২০১৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্ন আসক্তরা যখনই পর্ন মুভি দেখতে বসে তাদের মস্তিষ্কে স্ক্যান মেশিনের মতো আলো জ্বলে ওঠে।যেসব তরুণ অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা উত্তেজক ছবি দেখামাত্রই তাদের মস্তিষ্কে ক্রিসমাস ট্রির মতো আলো জ্বলে ওঠে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটিই দেখা গেছে।মস্তিষ্কের যে অংশে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় সে অংশটি ড্রাগ আসক্ত ও পর্ন আসক্ত উভয়ের বেলায়ই সমান উচ্চহারে সক্রিয় থাকে। 
এর এক বছর পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অল্প বয়স থেকেই পর্ন মুভি দেখায় অভ্যস্থ হয়ে পড়ে তাদের মস্তিষ্কের তিনটি অংশ যারা পর্নআসক্ত নয় তাদের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। সূত্র: ডেইলি মেইল 

পুরুষ তো বটেই, আজকাল মেয়েদেরও একটা অংশ নীল ছবি দেখে। গত বছর একটি সমীক্ষা থেকে এ কথা জানা গেছে। ফলে পর্ন ফিল্ম দেখা নিয়ে রাখঢাক করে লাভ নেই। বাস্তবটা মেনে নেওয়াই ভালো। তবে, এর কুফলও পড়তে শুরু করেছে। এবং সেটা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কী দেখে, কেন দেখে- এসব আলোচনা ছেড়ে সোজাসুজি একটা কথা বুঝে নেওয়া দরকার, উপমহাদেশে সেক্স-এডুকেশন বলে কিছু নেই। ভালোমন্দ বুঝে ওঠার আগেই অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা পর্ন ছবি দেখতে শুরু করছে। আর তার চেয়ে বড় চিন্তার বিষয়, দেখে দেখে সেটাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। শুধু অনুকরণই নয়, অনেকে আবার ছবি তুলে সংগ্রহ করে রাখছে নিজের কাছে। ফল যে কত মারাত্মক হতে পারে, তা চিন্তা না করেই। পর্ন ছবি দেখার আরও কুফল আছে। সেগুলো একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
১. মন নয়, শুধুই শরীর
প্রেমের সম্পর্ক হারিয়ে যাচ্ছে। সবটাই শরীরসর্বস্ব হয়ে উঠছে। শরীরের চাহিদা মেটাতেই অপরের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে। ফলে ভেঙেও যাচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি। বিয়ের পর, অনেক ক্ষেত্রেই যৌনতায় অতৃপ্তি তৈরি হচ্ছে। এবং শেষ পর্যন্ত ছাড়াছাড়ি পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
২. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অশ্রদ্ধা
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ (পড়ুন অশিক্ষিত পুরুষ) অশ্রদ্ধার চোখে দেখতে শুরু করছে মেয়েদের। ভাবছে নারী বোধহয় শুধুই ভোগ্যবস্তু। শুধু সহবাসের জন্য নারীর প্রয়োজন। সমাজে নারীর গুরুত্ব হারাচ্ছে। ফলে বাড়ছে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা। যে দেশে অশিক্ষিতের সংখ্যা বেশি, সেখানে এর কুফলই বেশি আসবে, তাতে সন্দেহ কী। কারণ ভালোমন্দ বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা এই অশিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে নেই। অথচ হাতে আছে সিডি, ডিভিডি, পেন-ড্রাইভ, ইন্টারনেট।
৩. সামাজিক মূল্যবোধ হারাচ্ছে
সৃষ্টিশীলতা, সৃজনশীলতা ধ্বংস হচ্ছে। সারাক্ষণই যৌনতা ঘুরছে অল্পবয়সী, না বুঝে ওঠা ছেলে মেয়েদের মধ্যে। বাঁধন হারাচ্ছে সবকিছুর। সামাজিক মূল্যবোধ হারাচ্ছে। নারী হলেই হলো। সম্পর্ক দেখছে না। ছাত্রী, পাড়ার বোন, ভাবি- বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এমনকী রেহাই পাচ্ছে না ছোটো ছোটো শিশু। সবার দিকেই লোলুপ দৃষ্টি। সামাজিক অবনমন হয়েই চলেছে দিন কে দিন।
৪. অশ্রাব্য ভাষা ও ইঙ্গিত বাড়ছে
ছোটো ছোটো ছেলেরা পর্ন ছবি দেখে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। নারী দেখলেই অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলছে। ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলছে। লজ্জা, শঙ্কা, ভয়, ডর- কিছুই থাকছে না। মনে করছে পৃথিবীর সবই হাতের মুঠোয়। (পড়ুন, সবাই হাতের মুঠোয়।)
৫. পর্ন ছবির যৌনতাকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা
নীল ছবির রগরগে যৌনতাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। কখনও সেটা ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভারতের নির্ভয়াকাণ্ডের মতো বীভৎস ঘটনার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।

Sunday, April 16, 2017

পর্ণগ্রাফি আসক্তি: ভয়াবহতা ও মুক্তির উপায়

 porn1

(আমি অনেক সময় তরুনদের থেকে মেসেজ / ই-মেইল পাই। তারা বলে, ভাইয়া আমি কিছুতেই পর্ণগ্রাফি দেখা ছাড়তে পারছি না, আপনার ইসলাম-বিষয়ক লেখাগুলো পড়তে খুব ভালো লাগে, দয়া করে এই বিষয়ে কিছু লিখেন। এই লেখাটি তাদের জন্য উৎসর্গ করা হলো।)
মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করার জন্য শয়তানের অন্যতম অস্ত্র হলো নগ্নতা। আমাদের আদি পিতা-মাতা আদম(আ) ও হাওয়া(আ) শয়তান জান্নাত থেকে বের করার আগে নগ্ন করে ছেড়েছিল। আল্লাহ্‌ বলেন:
হে আদমসন্তান। শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে – যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল – সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করেছিল … (সূরা আ’রাফ ৭:২৭)
মানুষকে নগ্ন করে বিপথে নেয়ার শয়তানের সেই চক্রান্ত শেষ হয়নি, বরং যুগের পর যুগ ধরে বেড়েই গেছে। আর বর্তমানযুগে শয়তানের এই শয়তানি চরম মাত্রা লাভ করেছে ইন্টারনেট পর্ণগ্রাফির কারণে।
যে কারণে পর্ণ আপনার দেখা উচিত নয়
পর্ণগ্রাফি মানুষকে মানষিক ও শারিরীকভাবে ভারসাম্যহীণ করে দেয়। নিচে পর্ণগ্রাফির  ৬টি ভয়াবহ ক্ষতিকর পরিণতি তুলে ধরা হলো। নেক্সট টাইম যখন আপনার পর্ণ ফিল্ম দেখতে ইচ্ছে করবে, এই কথাগুলো নিজেকে মনে করিয়ে দিবেন।
) পর্ণগ্রাফি আপনাকে ভালবাসার বিকৃত সংজ্ঞা শেখায়: আপনি যখন পর্ণ মুভি দেখেন তখন আপনি নিজের অজান্তেই অনুভূতিহীন, নিষ্ঠুর, স্বার্থপর মানুষে পরিণত হন। কারণ, পর্ণ মুভিগুলোতে মানুষের ভালো-লাগা, ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট-আনন্দ কোন অনুভূতিকেই দেখানো হয় না, শুধু দেখানো হয় “পেনেট্রেশন”। অথচ বাস্তব জীবনে আপনি আপনার সঙ্গীকে আদর-সোহাগ করবেন, গল্প-গুজব করবেন, আড্ডা মারবেন, ঘুরতে যাবেন – এগুলো সবই একটা সুস্থ ভালবাসাময় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পর্ন মুভি আপনার হৃদয় থেকে ভালোবাসার সেই অনুভূতিকে কেড়ে নেয়, নষ্ট করে দেয়। পর্ণ মুভি আপনাকে এভাবে প্রোগ্রাম করে ফেলে যে আপনি বিশ্বাস করা শুরু করেন যে ভালবাসার অপর নাম পেনেট্রেশন। আমেরিকায় এক জরিপে দেখা গেছে ডিভোর্স হওয়া দম্পতিদের ৫৬% ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর একজন পর্ণ আসক্ত।
অনেক তরুণ মনে করে – “এখন তো আমার বয়স কম, এখনো বিয়ে করিনি, এখন পর্ণ দেখি, বিয়ের পর আমি এগুলো দেখা ছেড়ে দিব”। কিন্তু, পরিসংখ্যান বলে ভিন্ন কথা – দেখা গেছে তরুন বয়সে পর্ণ দেখা যাদের অভ্যাসে পরিণত হয়, বিয়ের পরেও তাদের বেশীরভাগই পর্ণ দেখা ছাড়তে পারে না। কাজেই – আমি এখনো বিয়ে করিনি, তাই পর্ণ দেখব – এটা পর্ণ দেখার জন্য কোনও অজুহাত হতে পারে না।
)পর্ণ আপনার মানবিক অনুভূতিকে নষ্ট করে ফেলে: পর্ণ আপনাকে শেখায় মেয়েরা মানুষ নয়, শুধুই উপভোগের বস্তু। পর্ণ দেখার ফলে আপনি রাস্তা-ঘাটে, অফিসে-বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোন মেয়েকে দেখেন তখন চিন্তা করেন না তারও একটা জীবন আছে, আশা-আকাংক্ষা আছে, দু:খ-কষ্ট-আনন্দ-ভালোবাসার অনুভূতি আছে, আপনি শুধু চিন্তা করতে থাকেন এই মেয়েটার মধ্যে উপভোগ করার মত কি আছে। একটা মেয়ে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে গেলে আপনি চিন্তা করেন না মেয়েটা ব্যাথা পেয়েছে কি না, তাকে উদ্ধার করা যায় কি না, বরং আপনি চিন্তা করেন তার শরীরের কোনও অংশ উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে দেখা যায় কি না।একটি মেয়েকে তার সততা, মেধা ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে বিচার না করে আপনি তাকে বিচার করেন তার শরীরের বিশেষ কিছু স্থানের আকার-আকৃতি দিয়ে। পর্ণ মুভি আপনাকে শেখায় যে ক্লাসের বন্ধু, অফিসের কলিগ থেকে শুরু করে সবার সাথেই শারিরীক সম্পর্ক গড়া যায় – এভাবে পর্ণ আপনাকে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে উৎসাহিত করে। আমেরিকায় এক জরিপে দেখা গেছে যে গড়ে ৬৮% বিবাহ বিচ্ছেদ হয় অনলাইন পরকিয়ার কারণে।
৩) পর্ণ আপনার স্মরনশক্তি কমায়, আপনার মধ্যে ডিপ্রেশন তৈরী করে: ইসলামের স্কলারেরা সেই প্রথম থেকেই বলে আসছেন – আল্লাহ্‌ যা দেখতে নিষেধ করেছেন তার দিকে তাকালে স্মরনশক্তি, চিন্তাশক্তি কমে যায়। একবার ইমাম শাফেঈ কোরআনের কিছু আয়াত ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি তার উস্তাদ ইমাম মালিককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন – “তুমি হয়তো হারাম কিছু দেখেছ। তাই আল্লাহ তোমার থেকে জ্ঞান তুলে নিয়েছেন”। ইমাম শাফেঈ প্রথমে কিছুতেই মনে করতে পারছিলেন না তিনি কার দিকে হারাম দৃষ্টি দিয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারলেন – আজকে যখন বাজারে গিয়েছিলেন তখন এক মহিলাকে তার বাহন থেকে নামতে দেখেছিলেন। যখন সে নামছিলো তখন তার পায়ের গোড়ালির উপরে একটু কাপড় উঠেছিল, আর সেটার দিকে ইমাম শাফেঈর চোখ পড়ে গিয়েছিল। সাথে সাথে ইমাম শাফেঈ আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন, নিজের পাপের জন্য আকুতি-মিনতি করলেন। আর এর পরেই আল্লাহ্‌ তাকে ভুলে যাওয়া কোরআনের আয়াতগুলো ফিরিয়ে দিলেন।
মনোবিজ্ঞানীরাও গবেষনায় দেখেছেন যে পর্ণ মানুষের স্মরনশক্তি কমিয়ে দেয়, চিন্তাশক্তি হ্রাস করে, অমনোযোগী করে, ডিপ্রেসড করে দেয় এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জার্মানির ডুইবার্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডক্টর ক্রিস্টিয়ান লেয়ের ২৬ বছর বয়সী ২৮জন মানুষের উপর পর্ণ ছবি দেখার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন [১৩]। তিনি গবেষনায় পেয়েছেন – পর্ণ দেখার শর্ট-টার্ম ইফেক্ট হিসাবে এদের স্মৃতিশক্তি কমেছে এবং মনোযোগী হবার ক্ষমতা কমেছে। এছাড়া অন্য গবেষনায় পর্ণ দেখার লং-টার্ম ইফেক্ট হিসাবে ডিপ্রেশন, সামাজিকভাবে ব্যর্থতা ও একাকিত্ব থাকার প্রবণতা পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
৪) পর্ণ আপনাকে অক্ষম করে দিতে পারে: গবেষনায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত পর্ন ভিডিও দেখলে আপনার উত্তেজিত হওয়ার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। এর কারণ হলো – আজকালকার পর্ণ গুলো ধারণ করা হয় হাই ডেফিনিশন ক্যামেরায়, এইসব ক্যামেরায় মেয়েদের শরীরকে এত নিঁখুতভাবে ও জুম করে দেখানো হয় যে বাস্তবে আপনার সংগীকে আপনি এভাবে দেখতে পারবেন না, ফলে সহজে উত্তেজিত হবেন না। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটা পর্ণ মুভি আপনার সামনে নিয়ে আসে নতুন নতুন পর্ণ মডেল, নতুন নতুন লোকেশন আর নতুন নতুন কাহিনী। আপনার ব্রেইন ক্রমেই এই নতুনত্বে অভ্যস্ত হয়ে যায়, পুরনো কিছু তখন আর আপনাকে সহজে উত্তেজিত করতে পারে না। এর ফলে, এরকম ঘটতে পারে যে আপনি কিছুতেই আর আপনার স্ত্রীকে দেখে উত্তেজিত হবেন না। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অক্ষমতা এমন আকার ধারণ করে যে তারা শুধু পর্ণ মুভি দেখেই উত্তেজিত হতে পারে, এমন কি ভায়াগ্রার মতো শক্তিশালী ওষুধেও তাদের কোন কাজ হয় না। এই সমস্যাকে ইরেক্টাইল ডিস্ফাংশন বলে এবং গবেষনায় দেখা গেছে যারা কিশোর বয়সে পর্ণ দেখা শুরু করে (বিশেষ করে ১২ বছর বয়সের পূর্বে) তাদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট।
তবে আশার কথা এই যে, ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে আবার সক্ষম হওয়া সম্ভব। গবেষনায় দেখা গেছে কোনও ব্যক্তি টানা তিন মাস পর্ণ মুভি না দেখলে ও স্বমেহন না করলে তার ব্রেইন আবার আগের প্যাটার্নে ফিরে আসে, ফলে সে ডিজিটাল মিডিয়ার বাইরে মেয়েদেরকে দেখেও উত্তেজিত হতে পারে। ভেবে দেখুন – ব্রেইনের এই নিজে নিজে সেরে উঠার ক্ষমতা আল্লাহর তরফ থেকে কত বড় রহমত! আপনি বছরের পর বছর তাঁর অবাধ্যতা করার পরেও মাত্র তিন মাস নিজেকে সংযত রাখলে আল্লাহ্‌ আবার আপনাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন।
) আপনি যখন পর্ণ দেখেন, আপনি প্রস্টিটিউট তৈরী করেন: আপনি কি মনে করেন যারা পর্ণ মডেল হয়েছে তারা সবাই নিজের ইচ্ছাতেই পর্ণ মুভিতে এসেছে? মোটেই না। এদের অনেককেই লোভনীয় চাকুরী, ফ্রি-ট্যুর সহ বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে শুটিং স্পটে নিয়ে আসা হয়। তারপর অনেক টাকার লোভ দেখিয়ে, রঙ্গিন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে পর্ণ মুভিতে অভিনয় করানো হয়। আমেরিকাতে সাধারণ কাজে ঘণ্টায় যত টাকা পাওয়া যায়, পর্ণ মুভির জন্য প্রতি ঘন্টায় তার ২০গুণ টাকা দেয়া হয়। টাকার লোভে পড়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা পর্ণ মুভিতে নাম লেখায়, আর এভাবে করেই প্রস্টিটিউট হয়ে যায়।
মানুষ নতুন নতুন পর্ণ মডেল দেখতে পছন্দ করে। আর তাই পর্ণ মুভির প্রডিউসাররাও নিত্য-নতুন প্রলোভন দেখিয়ে নতুন নতুন মেয়েদেরকে প্রস্টিটিউশনের জগতে নিয়ে আসে। আপনি যে মেয়েটাকে পর্ণ-মুভিতে  হাসতে দেখছেন, আনন্দে-উচ্ছ্বাসে ডুবে যেতে দেখছেন – কম্পিউটার বন্ধ করে দিলেই আপনার তাকে দেখতে হয় না, কিন্তু আপনার সামনে সে যাতে পরের মুভিতেও আসতে পারে তার জন্য কিন্তু তাকে প্রস্টিটিউট হিসাবেই থেকে যেতে হয়। আপনি আপনার কম্পিউটারের সামনে বসে নিত্য-নতুন পর্ণ মডেল দেখার জন্য যে ক্লিক করছেন, সে ক্লিকের ডিমান্ড মেটানোর জন্য পর্ণ মুভির প্রডিউসারকে ক্রমাগত নতুন নতুন মেয়ে জোগাড় করে সাপ্লাই দিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে করে, আপাত:দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হওয়া এই ক্লিকের কারণেই বিশ্বজুড়ে পর্ণ ব্যবসার পালে হাওয়া লাগছে, আর এর সূত্র ধরে নতুন নতুন মেয়ে প্রতিদিন প্রস্টিটিউট হয়ে উঠছে।
আর যে সব পর্ণ মুভি গোপনে ধারণ করা হয়, এগুলো যে কত মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে, কত মেয়ে এগুলোর জন্য আত্মহত্যা করেছে – তার ইয়ত্তা নেই। ভেবে দেখুন – কেউ যদি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও না দেখত, তাহলে কেউ এগুলো বানাতোও না, ফলে এই ভিডিওগুলোর জন্য কোনও মেয়ের জীবনও নষ্ট হতো না।
) সব কিছু আমলনামায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে: মনে রাখবেন, আপনি একা ঘরে কম্পিউটারের সামনে বসে যা করছেন তা আর কেউ না দেখলেও আল্লাহ্‌ দেখছেন, আর ফেরেশতারা তা লিখে রাখছে এক পরিষ্কার গ্রন্থে। আল্লাহ্‌ যদি এখনো আপনার কুকর্ম মানুষের সামনে প্রকাশ না করে দিয়ে থাকেন – তাহলে বুঝবেন আপনাকে আল্লাহ্‌ তাওবাহ করার জন্য সুযোগ দিচ্ছেন। আপনি যদি তাওবাহ না করে মারা যান, তাহলে এই গ্রন্থের সবকিছু একদিন আপনার সামনে তুলে ধরা হবে, আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু সবাই আপনার আমলনামা দেখতে পাবে। নিজেকে প্রশ্ন করুন – সেদিনের সেই লজ্জার সম্মুখীন কি আপনি হতে পারবেন?
lower your gaze
পর্ণ-আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়
এতক্ষণ বললাম পর্ণগ্রাফির খারাপ পরিণতি সম্পর্কে। আর এবার পর্ণ আসক্তি ছাড়ানোর জন্য ৪টি মাত্র টিপস দিচ্ছি:
ডিজিটাল মিডিয়ার কোনো মেয়ের দিকে তাকাবেন না: আপনি কম্পিউটারে যে পর্ণস্টারদের দেখেন, বা টিভিতে যে মডেল আর ফিল্মস্টারদের দেখেন – এরা সবাই হাজার হাজার ডলার এর সার্জারী করে, মেকাপ করে, স্পেশালিষ্ট এর অধীনে ব্যায়াম করে, মেকআপ করে তাদের শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিকে চকচকে করে তোলে মানুষের চোখে নিজেকে আকর্ষণীয়, আবেদনময়ী করে তুলতে। তার উপর আছে হাই-ডেফিনেশন ক্যামেরা, ফটোশপ আর অত্যাধুনিক ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার এর কারসাজী। এর ফলে আপনি কম্পিউটারে, টিভিতে, ফ্যাশন ম্যাগাজিনে যে মেয়েদেরকে দেখেন তারা নিঁখুত, পার্ফেক্ট। এমনকি আপনি চাইলে মিনিটির পর মিনিট, ঘন্টার পর ঘণ্টা ধরে এই পার্ফেক্ট ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন – বাধা দেয়ারও কেউ নেই। কিন্তু, বাস্তব জীবনের কোন মানুষই এরকম পার্ফেক্ট হয় না আর এরকম পিক্সেল বাই পিক্সেল জুম করে দেখাও যায় না। তাই, ডিজিটাল মিডিয়া আর বাস্তবতা এক নয়।
আপনি যতই আবেদনময়ী মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকেন, ততই আপনার শরীরে ডোপেমিন নামক হরমন নিঃসৃত হয়। এই হরমন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে নি:সৃত হলে আপনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আপনি যখন নিত্য-নতুন সুন্দর মেয়ে দেখতে থাকেন তখন আপনার আপনার শরীর নিজেকে এমনভাবে এডজাস্ট করে নেয় যাতে পরেরবার উত্তেজিত হতে আপনার আরো বেশী ডোপেমিন এর প্রয়োজন হয়, কারণ না হলে তো আপনি খুব সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়বেন। এমনকি আপনি যখন টিভিতে কোন আবেদনময়ী মডেলের এড দেখেন, বা ফেইসবুকে আপনার সুন্দরী বান্ধবীর ছবি দেখেন – তখনো আপনার ডোপেমিন নিঃসৃত হয়। ডিজিটাল মিডিয়ার মেয়েদেরকে আপনি যতই দেখবেন – বাস্তব জগতের একটি মেয়েকে বা আপনার স্ত্রীকে দেখে আপনার উত্তেজিত হওয়ার ক্ষমতা ততই নষ্ট হতে থাকবে। আর তাই – ডিজিটাল মিডিয়ার মেয়েদের দিকে যত কম সম্ভব তাকান।
) যদি তাকাতেই হয় তো চেহারার দিকে তাকান: মেয়েদের দিকে যদি একেবারেই না তাকানো যায় তো সবচেয়ে ভালো। কিন্তু, বাস্তবতা হলো আমরা এখন যে জগতে বাস করি তাতে মেয়েদের দিকে না তাকিয়ে, তাদের সাথে মেলা-মেশা না করে চলা যায় না। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে আপনাকে খবর দেখতে হবে – খবর উপস্থাপন করে মেয়েরা,  আবার কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে পড়াশুনা করতে হয়, অফিসেও মেয়ে কলিগ থাকে, অনেক সময় নতুন ভালো মুভিও দেখতে ইচ্ছা করে, তাতেও নারী আছে – এমন অবস্থায় করণীয় কি? সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে যেতে হবে? না, এভাবে জীবন চলবে না। যেটা করবেন সেটা হলো – যখনই কোন মেয়ের দিকে তাকানোর প্রয়োজন পড়বে তখন সরাসরি তার চেহারার দিকে তাকাবেন, শরীরের অন্য কোনো বিশেষ অংশের দিকে নয়। আর তাকানোর সময় নিজের নিয়তের দিকে লক্ষ্য রাখবেন, কিছুতেই যেন কোন শারিরীক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তার দিকে না তাকান, দুঃখ-কষ্ট-রাগ-ভালোবাসার অনুভূতিসম্পন্ন একজন মানুষের সাথে কথা বলছেন এভাবে তাকান।
আপনার মায়ের সাথে, স্ত্রীর সাথে, বোনের সাথে বা মেয়ের সাথে একজন বাইরের মানুষ যখন কথা বলে তখন আপনি তার থেকে যেরকম সুন্দর-শোভন-সাবলীল-সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন, তার চোখ যেখানে থাকবে বলে আপনি আশা রাখেন, অন্য একটা মেয়ের ক্ষেত্রে নিজের চোখটিও সেইভাবে নিয়ন্ত্রন করুন। মনে রাখবেন, আপনি যখন একটা মেয়ের দিকে তার অজান্তে কামনার দৃষ্টি নিয়ে তাকাচ্ছেন, আপনি তার অধিকার লঙ্ঘন করছেন।
) কিছুতেই নামাজ ছাড়বেন না:  সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন উপদেশ – কিছুতেই ১টি ওয়াক্তেরও নামাজ ছাড়বেন না। আর আপনি যদি নামাজী না হয়ে থাকেন – তো আজ থেকেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ শুরু করে দিন। কারণ, আল্লাহ্‌ বলেছেন – “নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল কাজ ও পাপাচার থেকে দূরে রাখে” (সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫)। এক ঘরে যেমন একইভাবে আলো আর অন্ধকার থাকে না, তেমনি একই হৃদয়ে একইসাথে নামাজ আর পর্ণগ্রাফি থাকতে পারবে না। একবার সাহাবারা রাসূলুল্লাহ(সা) কে বললো – অমুক সাহাবী বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। রাসূলুল্লাহ(সা) জিজ্ঞেস করলেন – সে কি এখনো নামাজ পড়ে? সবাই বললো – হ্যাঁ, পড়ে। রাসূলুল্লাহ(সা) বললেন – সে যদি নামাজ পড়তে থাকে তাহলে নামাজ তাকে অবশ্যই একদিন খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।
৪) নিয়মিতভাবে নফল রোজা রাখুন: রোজা হচ্ছে ঢালস্বরুপ, যা কিনা আমাদেরকে পাপ কাজ থেকে দূরে সরে থাকতে সাহায্য করে। আমরা যখন রোজা রাখি তখন আমাদের পাকস্থলী ক্ষুধার্ত থাকে, ক্ষুধার্ত পাকস্থলি শরীরকে দুর্বল করে দেয়, এর ফলে আমাদের কামনা-বাসনাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ে। আর তাই, কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ(সা) আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন রামাদানের রোজার বাইরেও বেশী বেশী করে নফল রোজা রাখতে।
রোজা রাখার রুটিন কেমন হবে? এর জন্যও সুন্নাহতে বিভিন্ন গাইডলাইন দেয়া আছে [১৪]। সবচেয়ে সহজ হলো – প্রতি আরবী মাসের মাঝের তিন দিন (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) রোজা রাখা, এর চেয়ে আরেকটু কঠিন হলো – প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহষ্পতিবার রোজা রাখা, আর সবচেয়ে ভালো হলো দাউদ(আ) এর মতো রোজা রাখা – একদিন পর একদিন। এছাড়াও বছরের নিচের দিনগুলি রোজা রাখার জন্য বিশেষ বরকতময় –
  • রমজানের পরের মাস শাওয়াল মাসের ছয় রোজা। রমজানের পর এই রোজাগুলি রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সাওয়াব পাওয়া যায়।
  • আরাফাতের দিন বা যিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখের (অর্থাৎ ঈদুল আযহার আগের দিনের) রোজা – যা কিনা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।
  • যিলহজ্জ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনের রোজা – যা কিনা আল্লাহর কাছে সবচাইতে প্রিয় নফল ইবাদত।
  • আশুরা বা মহররম মাসের ১০ তারিখের রোজা – যা কিনা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়। এর সাথে মহররমের ৯ তারিখে রোজা রাখতে পারলে আরো ভালো।     
শেষ কথা: মনে রাখবেন – আপনি যত পাপ করতে পারেন, আল্লাহ্‌ তার চেয়েও বেশী ক্ষমা করতে পারেন, আপনি যতবার পাপ করতে পারেন, আল্লাহ্‌ তার চাইতেও বেশী বার আপনাকে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শর্ত হলো আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন – আর কোনোদিন পর্ণ দেখবেন না। যদি শয়তানের ফাঁদে পড়ে কখনো দেখে ফেলেন তো সাথে সাথে গোসল করে দুই রাকআত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে নিন, দেরী করবেন না। তারপর দ্বিগুন দৃঢ়তা নিয়ে প্রতিজ্ঞা করুন – আর কোনদিন পর্ণ দেখবেন না, আপনি আর শয়তানের দাস হবেন না, শয়তান বরং আপনার দাস হবে। কিছুতেই হাল ছাড়বেন না, কিছুতেই না, শয়তান তার শয়তানীতে হাল ছাড়েনি, আপনিও আপনার ঈমানদারীতে হাল ছাড়বেন না। শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই সফলতা নয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর যাত্রাটাও সফলতা।
মহান আল্লাহ্‌ বলেন:
(জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য) যারা কোনও অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? (সূরা আলে-ইমরান ৩:১৩৫)
তথ্যসুত্র ও প্রাসঙ্গিক পাঠ্য:
  1. NoFap.com – An online community to fight against porn addiction
  2. GuyStuffCounseling.com
  3. Statistics about porn: http://www.covenanteyes.com/pornstats/
  4. Why I stopped watching porn – Ran Gavrieli
  5. Basics of Rebooting
  6. Growing up in a pornified culture – Gail Dines
  7. The Connection Between Human Trafficking & Porn
  8. Advise to pornography addicts – Shaykh Yasir Qadhi
  9. Islam on pornography – Abdul Malik Mujahid
  10. Advice for those who watch porn videos – Sheikh Muhammad Mukhtar Ash-Shinqitee
  11. What is the Islamic ruling on masturbation? – Shaykh Salman al Aoudah
  12. What is the Islamic ruling on masturbation? – OnIslam.net
  13. Why online porn make you forget – LiveScience
  14. Voluntary fasting and its merits – islamway.net

পর্নগ্রাফি যা যিনার বিস্তার ঘটাচ্ছে, পরিণাম হলো ঈমান হারা হওয়া । এর থেকে বাচার উপায় ।

বর্তমানে পর্ণগ্রাফির ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে কম্পিউটার , মোবাইল ও ইন্টারনেটের কারণে । পথে ঘাটে অবাধে প্রকাশ্যে এডাল্ট সিডি বিক্রয় হচ্ছে । ঘরে ঘরে কম্পিউটার ও মোবাইল তা দেখা সহজ করে দিয়েছে । আর ইন্টারনেট থাকলে তো কথাই নেই । বর্তমান যুব সমাজের নিকট ১৮+ ছবি দেখা একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত ব্যাপার । অনেকে এটার প্রতি চরম আসক্ত হয়ে গেছে । এমনও উদাহরণ আছে, যারা নামাজ রোজা করেও এর নেশা থেকে মুক্ত হতে পারছেনা । অথচ এর পরিণতি যে কত ভয়াবহ, তা মানুষ উপলব্ধি করেনা ।

এটা শয়তানের একটা মারাত্নক ও অব্যার্থ অস্ত্র । শয়তান এই অস্ত্র দ্বারা মানুষের মনে খুব সূক্ষভাবে আস্তে আস্তে স্রষ্টা বিষয়ে সন্দেহ তৈরী করে এবং মানুষের ঈমান ছিনিয়ে নেয় ।তার মনে কুমন্ত্রণা দেয় এসব করার জন্য ও দেখার জন্য । অবোধ মানুষ টেরও পায় না সে তার এই নেশার কারণে দুনিয়া ও আখেরাত সবই হারায় । মানুষ ঈমান হারা হতে তৈরী হয়ে যায় যেনা করার বিনিময়ে । এর ভয়াবহ নেশায় বুদ হয়ে সব কিছূ হারায় । খুব সূক্ষভাবে মনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয় যে খোদার কাছে মাফ চেয়ে নিলে হবে তারপরে মনে গেথে দেয় খোদা বলে কিছু নেই , মজা লইয়া লও । এভাবেই সে ঈমান হারা হয়ে যায় ।

কুরআন ও হাদীস অনুসারে যেনার পরিণতিঃ

যিনা - ব্যাভিচার একটি মারাত্নক গুনাহ ও সামাজিক ব্যাধি । রাসূলে করিম (সাঃ) বলেছেন, ' আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করার পর নিষিদ্ধ নারীর সাথে সহবাস করার মতো বড় গুনাহ আর নেই ।' (আহমদ)

চিন্তা করে দেখেন , শিরক হলো এমন গুনাহ যা আল্লাহ মাফ করবেন না বলে কুরআনে বলে দিয়েছেন । তারপরের বড় গুনাহ হলো যেনা ।

হাদিসে আরো আছে, 'যে ব্যাক্তি কোন নিষিদ্ধ নারীকে স্পর্শ করবে, কিয়ামতের দিন তার হাত ঘাড়ের সাথে যুক্ত থাকবে । আর কেউ যদি কোন নিষিদ্ধ নারীকে চুমু দেয় কিয়ামতের দিন তার ঠোট কাঁচি দিয়ে কাটা হবে । '

সহবাস ছাড়াও বিভিন্নভাবে যিনা হতে পারে । এক হাদিসে আছে, 'কোনো বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথা বলা জিহ্বার যিনা, স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা মনের যিনা । (বুখারী)

বর্তমান এই খারাপ সময়ে কয়জনে এরূপ যেনা থেকে মুক্ত থাকতে পারছে ? যেনা করতে না চাইলেও চোখের সামনে দেখে মনের মধ্যে কুচিন্তা এসে যায় ।

আল্লাহতা'য়ালা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেন, 'তোমরা যিনার কাছেও যাবে না । কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ । (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২)

মহানবী (সাঃ) বলেছেন, " যে ব্যাক্তি যেনা করে কিংবা মদ পান করে, আল্লাহ তার কাছ থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেন, যে ভাবে কোন ব্যাক্তি তার জামা মাথার উপর দিয়ে খুলে ফেলে । (হাকেম)

এ হাদিসের মর্ম কথা হলো, যেনা করার পরিণতি হলো ঈমান হারা হওয়া । এটা এমন একটা জঘন্য পাপ যে, মানুষ যখন তা করে আল্লাহ মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিষ ঈমানকেই নিয়ে নেন ।


যিনা থেকে বাচার উপায় কিঃ

যিনা একটি মারাত্নক ও ভয়াবহ রোগ , যা নেশা হয়ে গেলে তার থেকে মুক্ত পাওয়া খুব কঠিন । কিন্তু এর থেকে মুক্ত না হলে পরিণতিও হয় ভয়াবহ । ব্যাক্তিগত ও সমাজ জীবনে অশান্তি, নৈতিকতার স্খলন, ব্যাভিচার বৃদ্ধি , যৈান জীবন ধ্বংস এবং বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি হয়।


এর থেকে বেচে থাকার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকতে হবে । সব সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে । বর্তমান কঠিন সময়ে এর থেকে বাচা খুবই কঠিন ।

প্রথমতঃ আল্লাহর কাছে খাস দিলে তওবা করতে হবে এবং কান্নাকটি করে মাফ চাইতে হবে । মনে কঠিন সংকল্প করতে হবে এবং সব সময় এই সংকল্প নতুন করে যাচাই করতে হবে ও আওড়াতে হবে ।

দ্বিতীয়তঃ পাচ ওয়াক্ত নামাজ সহিহ সুন্দর করে জামাতে পড়ার চেষ্টা করতে হবে এবং নামাযের পাবন্দী করতে হবে । নামায নিয়মিত হলে তা মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে ।

আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,

ইন্নাস সালাতা তানহা আনিল ফাহশা-ই ওয়াল মুনকার ।
'নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে ।' অর্থাৎ নামাযের হক আদায় করে ব্যাক্তিগত ও সমাজ জীবনে নামায প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে
সমাজ থেকে যাবতীয় অশ্লীল ও অন্যায় কাজ দূর করার জন্য চেষ্টা ও সাধনা করতে হবে ।

তৃতীয়তঃ সব সময় আল্লাহ যিকিরে থাকতে হবে । মনে মনে সব সময় আল্লাহকে স্মরণ রাখতে হবে । যখন যে অবস্হায় থাকা হয় না কেন মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ সব কিছু দেখেছেন এবং তিনি হাশরের ময়দানে সবকিছুর হিসাব নিবেন । এবং পাপের জন্য কঠিন শাস্তি দিবেন ।

চতুর্থতঃ সময় সুযোগ করে তাবলীগে সময় দিলে মানুষের মনের অনেক পরিবর্তন হয় এবং দিলের মধ্যে নূর পয়দা হয় । নিয়মিত প্রতিমাসে তাবলীগে সময় দিলে মানুষ খারাপ কাজ ত্যাগ করে ধার্মিক মানুষে পরিণত হয় । সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ মানুষের মধ্যে ঈমান বৃদ্ধি করে । তাই মাঝে মাঝে সকলেরই তিনদিন, দশদিন , চিল্লা ও তিন চিল্লা দেওয়া উচিত ।

পন্চমতঃ সমাজ থেকে অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ দূর করার জন্য সচেষ্ট থাকা উচিত । এটা একটা সংক্রামক রোগ । একজনের কাছ থেকে আরেকজনে ছাড়ায় । তাই শুধু একা এর থেকে বেচে থাকা যাবেনা । তা দূরীকরণে সচেষ্ট হতে হবে ।

Sunday, October 30, 2016

Tuesday, October 25, 2016

ধর্ষণ আমেরিকার শিক্ষার্থীদের কাছে ডালভাতের মতোই সাধারণ ঘটনা

২০১৩ সালের আগস্ট । ইউ.এস. এ. । ১৯ বছরের সারা (ছদ্মনাম) খুব খুশি । তার এতদিনের স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে । অনেক চেষ্টার পর সে সুযোগ পেয়েছে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার । অবশেষে এসেছে সেই মুহূর্ত । ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় রাতে তার সব ক্লাসমেটেরা পার্টী করছিল ভার্সিটিতে ভর্তির আনন্দে । সারাও ছিল সেখানে । রাত প্রায় ১ টার দিকে তার এক পুরুষ ক্লাসমেটের সঙ্গে তার দেখা হয়ে গেল । এই ছেলেটাকে সে আগে কখনো দেখেনি তবে মাঝে মাঝে অনলাইনে কথা হয়েছে । কিছুক্ষন গল্প গুজব করার পর ঐ ছেলেটা তাকে বলল, “চল কিছু ড্রিংক করা যাক । মাথা নেড়ে সায় জানালো সারা – ভালো বলেছ । আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে । ছেলেটা সারার গ্লাসে ড্রিংকস ঢেলে দিল । সারা চুমুক দিল গ্লাসে । তারপর তার আর কিছুই মনে নেয় । নয় ঘন্টা পর যখন তার জ্ঞান ফিরল সে নিজেকে আবিষ্কার করল অপরিচিত এক রুমের বিছানায় । মাথাটা ঝিম ঝিম করছিল, গায়ে একটা সুতা পর্যন্তও নেই , চুলগুলো এলোমেলো । বিছানার পাশে চেয়ারে বসে আছে একটা ছেলে – এই ছেলেটায় গতকাল রাতে তার গ্লাসে মদ ঢেলে দিয়েছিল মনে পড়লো তার । স্থানীয় একটা হাসপাতালে মেডিক্যাল চেকআপের রিপোর্ট থেকে নিশ্চিত হওয়া গেল সারাকে ধর্ষণ করা হয়েছে । সারা অবশ্য আগে থেকেই এমনটা অনুমান করেছিল । খুবই দুঃখের বিষয় ইউরোপ আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এরকম ঘটনা খুবই কমন । ধর্ষণ আমেরিকার শিক্ষার্থীদের কাছে ডালভাতের মতোই সাধারণ ঘটনা । এই দেশের কলেজ ইউনিভার্সিটিগুলো পৃথিবীর গতিপথ পাল্টে দেওয়া মানুষ তৈরি করছে সত্য , কিন্তু সেই সাথে তৈরি করছে অনেক ধর্ষক । আমেরিকার স্কুল , কলেজ , ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস গুলোই নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ ক্যাম্পাস ।
কিছু পরিসংখ্যান সাহায্য করবে অবস্থার ভয়াবহতা বুঝতে –
# এমন ছয়লাখ তিয়াত্তর হাজার শিক্ষার্থী যারা এ মুহূর্তে আমেরিকার কলেজ এবং ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন তাঁরা জীবনে অন্তত একবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন । (২০০৭ সালের জরিপ)
# প্রতি ২১ ঘন্টায় আমেরিকার কোন না কোন কলেজের ক্যাম্পাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে
# প্রতি ১২ জন কলেজেগামী পুরুষ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন ধর্ষণের সাথে জড়িত
# ধর্ষিত হওয়া ৫৫ শতাংশই নারী সে সময় মাতাল ছিলেন । ৭৫ শতাংশ ধর্ষকেরাই ধর্ষণ করার সময় মাতাল ছিল বা তার অল্প কিছুক্ষন আগে ড্রাগস নিয়েছিল ।
# ইংল্যান্ডের প্রতি তিনজন মহিলা শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন তাঁর নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ধর্ষণের শিকার হয় (টেলিগ্রাফ)
# আন্ডারগ্র্যাড লেভেলের অর্ধেক
মহিলা শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই এমন কাউকে চিনেন যারা তাদের নিজেদের
ক্যাম্পাসেই নিজেদের বন্ধুদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে । (টেলিগ্রাফ)
# “It is estimated that 1 in 5 women on college campuses has been sexually assaulted during their time there — 1 in 5.” –President Obama, remarks at White House, Jan. 22, 2014
“We know the numbers: one in
five of every one of those young women who is dropped off for that first day of
school, before they finish school, will be assaulted, will be assaulted in her
college years.” –Vice President Biden, remarks on the release of a White House
report on sexual assault, April 29, 2014 (Washington post)
এই রেপগুলোর পেছনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে অনেক গুলো বিষয় । তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুলো হল- পর্ণমুভি, মদ্যপান , গাঁজা, কোকেন এককথায় ড্রাগস , নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশ, নারীদের অভদ্র (indecent) পোশাক আশাক ।
ফার্স্ট ইয়ারের ফ্রেশ স্টুডেন্টদের জন্য ওরিয়েন্টশানের দিন থেকে শুরু করে থ্যাংকসগিভিংডে পর্যন্ত এই ছয় সপ্তাহ সবচেয়ে ভয়াবহ । এই সময় তারা সবচেয়ে বেশী ঝুঁকির মধ্যে থাকে যৌন নিপীড়নের । এই সময়টাতে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য তাদের সংগ্রাম করতে হয় । সেই সাথে সিনিয়রদের “দাদাগিরি” ফলানোতো আছেই । Association of American Universities এর নতুন প্রতিবেদন (৬) থেকে দেখা যায় গ্র্যাজুয়েশান কোর্স শেষ করার পূর্বে প্রতি চার জন্য নারীর মধ্যে একজন ধর্ষণের শিকার হন । এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে গত বসন্তে ২৭ টি টপ ইউনিভার্সিটির প্রায় দেড়লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে । এই প্রতিবেদনে আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী নির্যাতনের যে চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা ২০১৪ সালের আগের প্রতিবেদন (1 in a 5 stats, এই প্রতিবেদন দেখেই ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন গঠন করেছিল – white house task force to protect students from sexual assault ) থেকে অনেক ভয়াবহ . White house task force এর প্রথম রিপোর্টে (not alone) অবশ্য বলা হয়েছিল প্রতি চার জন নারী শিক্ষার্থীর মধ্যে তিন জন ক্যাম্পাসে থাকাকালীন যৌন নির্যাতনের শিকার হন । প্রায় ৮৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষক ভিক্টিমের পরিচিত থাকে । বেশীর ভাগক্ষেত্রেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় ভিক্টিমের বন্ধু, ক্লাসমেট , এক্স- বয়ফ্রেন্ড অথবা পরিচিত অন্য কেউ । প্রতিবেদনে আরো দেখা যায় – ধর্ষণের সময় অধিকাংশ ভিক্টিম স্বাভাবিক সচেতন অবস্থায় ছিলেন না – তারা হয় মাতাল ছিলেন বা কোন হার্ড ড্রাগস নিয়েছিলেন অথবা কোন ভাবে হুঁশ হারিয়ে ফেলেছিলেন ।
সারা তার ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোন চার্জ আনেননি এবং জনসম্মুখে প্রকাশও করেননি ঠিক কে তাকে ধর্ষণ করেছিল । আমেরিকাতে ধর্ষণের ঘটনা চেপে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না । American Civil Liberties Union এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৯৫ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনাই আনরিপোর্টেড থেকে যায় । এক্সপার্টদের মতে এর কারন হতে পারে ভিক্টিমের মানসম্মান হারানোর ভয় , ধর্ষকদের বিচার না করা বা তাদের প্রতি সমাজের সহানুভূতি । ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট করা হলেও , বেশীরভাগ
ক্ষেত্রেই ধর্ষকের গায়ে ফুলের টোকাটা পর্যন্ত পড়ে না আইনী এবং প্রশাসনিক জটিলতার
কারণে । বোঝেন আমেরিকার এই সমাজ কতটা পচে গেছে ।
অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে খোদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে । অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে তার প্রশাসন । হিলারী ক্লিনটন ক্যাম্পেইন করছেন , সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে । তবে সেগুলো খুব একটা ফলপ্রসু হচ্ছে না কলেজ , ইউনিভার্সটির কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে । u.s. senate subcommittee on financial & contracting oversight স্বীকার করেছে ৪৪০টি কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি স্যাম্পলের মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশী কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি গত ৫ বছরে একটা যৌন নিপীড়নের ঘটনার তদন্তও ভালোমতো করেনি । বেশীরভাগ কলেজ , ইউনিভার্সটি কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে না তাদের ক্যাম্পাসে ঘটা নারী নির্যাতনের ঘটনা গুলো বের হয়ে আসুক । কে আর নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে চায় ? কেই বা চাইবে নিজেদের গোমর ফাঁস করে দিয়ে সরকার বা কোন দাতব্য সংস্থার ফান্ডিং হারাতে । বাধ্য হয়ে সারা’র মতো শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো চেষ্টা করছেন ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য । বিভিন্ন সোসাইটি বা মুভমেন্টের মাধ্যমে তারা চেষ্টা করছেন ধর্ষণের বিরুদ্ধে সবাইকে এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসার । সুবহানআল্লাহ! উপরে যতই মহান , সভ্য , উদার , মানবিক বলে মনে হোক না কেন এই হল পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী সভ্যতার আসল চেহারা । স্বাধীনতা আর নারীর সমানাধিকার বলে চিল্লাপাল্লা করে গলা ফাটিয়ে ফেললেও দিন শেষে নারীর ইজ্জতের চেয়ে তাদের কাছে ভাবমূর্তি আর ডলারের মূল্য অনেক বেশী । মদীনাতে একজন মুসলিম মহিলার সম্মানের জন্য মহানবী (সাঃ) ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে ফেলেছিলেন প্রায় । মাত্র একজন মহিলার জন্য । অথচ এই ইসলামকে আজ পুরো বিশ্ব জুড়ে খুব সুপরিকল্পিত ভাবে রিপ্রেজেন্ট করা হচ্ছে নারী স্বাধীনতার হন্তারক হিসেবে । বোরখার আড়ালে মুসলিমরা নারীদের ঘরের চার দেয়ালে আটকে রাখে , সম্পত্তিতে নারীদের সমানাধিকার দেয় না